Skip to main content

Posts

অচিন পাখী

ক্লাস নাইনে আমার এক স্যার বলেছিলেন, ‘চাইলে তুমি ফিউচারে যেতে পারবে।‘ মনটা আনন্দে নেচে উঠেছিল। টাইম মেশিনের গল্প আগেই পড়া ছিল। সেটা তাহলে এবার সত্যি হতে চলেছে? জানতে চেয়েছিলাম, কীভাবে? জবাবে স্যার যা শুরু করলেন, তাতে আমার মাথা ঝিমঝিম করতে লাগল। বাপ রে বাপ। বেজায় কঠিন। আগে জানলে একটু ও উৎসাহ দেখাতাম না। আমার মনমরা ভাব দেখে স্যার বললেন, ‘অঙ্কে যাদের আতঙ্ক তাদের জন্য এসব বোঝা মুশকিল।‘ ‘ভালো ভালো জিনিষ তো জানতে ইচ্ছে করে। কিন্তু তাই বলে অঙ্ক? আমি ওতে নেই।‘ জোরে বলার সাহস নেই। তাই মনে মনেই বললাম। পরে যদি ও বিজ্ঞান শেখার দায়ে অঙ্ক আমাকে শিখতে হয়েছিল। সেসব তো স্টুডেণ্ট লাইফের কথা। এখন ভাবি, আমার মত আরো অনেকেই নিশ্চয় আছেন যারা বিজ্ঞানের নতুন নতুন ব্যাপার জানতে আগ্রহী। কিন্তু ঘুরেফিরে সমস্যা ওই এক জায়গায়। ড্রাগনের মত ভয়ঙ্কর আগুনে অঙ্ক! সেই দুঃখের জায়গা থেকেই নিজেকে একটা চ্যালেঞ্জ দিয়েছি। বিনা অঙ্কে বিজ্ঞানের কথা বলব। যাতে ক্লাস নাইনের ছাত্র ও বুঝতে পারে। টাইম মেশিনে চড়ে যদি অতীত বা ভবিষ্যতে যেতে হয় তবে প্রথমেই যে প্রশ্নটি আসবে তা হল অতীত, ভবিষ্যত, বর্তমান কাকে বলে? এটা আদৌ কঠিন নয়। স্কুলে ত…
Recent posts

গণেশবাবুর স্মার্টফোন

সকালে চায়ের সাথে বিস্কুটের মত খবরের কাগজ না হলে আমার একদমই চলে না। সবে প্রথম পাতায় চোখ বোলাচ্ছি হঠাৎ কাগজের ওপর একটা ছায়া পড়ল। মুখ তুলে দেখি গণেশবাবু। মুখে লাজুক হাসি। হাতে একটা কাগজে মোড়া ছোট বাক্স। চাইনিজ স্পেস স্টেশন নিয়ে আমার লেখা ‘তিয়াংগং’ এর গল্প যারা পড়েছেন তারা গণেশবাবুকে ভালো করেই চেনেন। যারা চেনেন না, তাদের বলে দিই, ইনি আমার প্রতিবেশী। বয়স এখনো ষাটের নীচে। একমাত্র ছেলে থাকে ইউএসএ তে।
-আরে, আসুন আসুন! আমার বিরক্তি গণেশবাবুকে বুঝতে দিলাম না। -বসুন, কী ব্যাপার, হাতে ওটা কী?
-আর বলবেন না মশাই, ছেলে আমাকে গাড্ডায় ফেলে দিয়েছে। নাহলে কি সকাল সকাল আপনাকে বিরক্ত করতে আসি? এই মরেছে! গণেশবাবু কি আমার অভিনয় ধরে ফেলেছেন? তাই ডবল জোর দিয়ে বললাম, ‘আরে আরে, মানুষ তো মানুষের কাছেই আসবে। এত ভাবছেন কেন? তা, কী বিপদে ফেলল আপনার ছেলে? মেয়ে পছন্দ করে ফেলেছে না কি? বলা যায় না, আমেরিকা বলে কথা।‘ -না না, তা নয়। আপনাদের আশীর্বাদে ছেলের এখনো কোন বেচাল দেখিনি।
-তবে?
-ছেলে আমার জন্য এইটা পাঠিয়েছে। হাতের বাক্সটা এবার আমার দিকে বাড়িয়ে দিলেন গণেশবাবু। হাতে নিয়ে কাগজ সরাতেই বোঝা গেল জিনিষটা একটা স্ম…

নাটকঃ লিগ্যাসি কোড ১৯-০৫-১৯৬১

ছোটবেলায় পড়েছিলাম কলম নাকি তলোয়ারের চেয়ে অনেক ধারালো, অনেক শক্তিশালী। এতদিন তাই ভাবতাম। এখন লিখতে বসে কেমন যেন সন্দেহ হচ্ছে। বুধবার বঙ্গভবনে যে নাটক দেখলাম তাকে কাগজের পাতায় ফুটিয়ে তোলার কনফিডেন্স অন্ততঃ আমার কলমে নেই। নাট্যকার অরিজিৎ আদিত্য ও নির্দেশক অভিনেতা সুব্রত রায়ের প্রতিভার সামনে নতজানু হয়ে এ লেখা লিখছি।
গ্রাফিক্স ডিজাইনঃ ডঃ রাজীব কর নাটকটি প্রথমবার মঞ্চস্থ হয়েছিল দিল্লীতে। এবার শিলচরে হল। এ নাটকের যেটা ক্যানভাস, দুরূহ বাংলায় যাকে বলে পটভূমিকা, সেটা বরাক উপত্যকার তো বটেই গোটা অসমের সবারই জানা। তবে ভারতবর্ষের বেশির ভাগ লোকই এ নিয়ে খুব একটা কিছু জানেন না।
গল্পের মুখ্য চরিত্র অর্জুন নমশূদ্র এক ‘ডি-ভোটার’। এই ‘ডি-ভোটার’ বা ডাউটফুল ভোটার শব্দটি অসমের বাঙালীদের জন্যে আতঙ্কের অপর নাম। কারো নামে একবার যদি এই ‘ডি-ভোটার’ নোটিস আসে তবে তিনি নিজভূমেই পরবাসী হয়ে গেলেন। তাঁকে এবার আদালতে প্রমাণ করতে হবে তিনি ভারতের নাগরিক। মাননীয় গৌহাটি হাইকোর্টের আদেশ মত বিচার না হওয়া পর্যন্ত ‘ডি-ভোটার’ দের ডিটেনশন ক্যাম্পে আটক করে রাখতে হয়। রাজ্যের অনেক জায়গায় জেলগুলিকেই ডিটেনশন ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহা…

শিলচরের নাটকে বসন্তের হাওয়া

শনিবার শিলচর ডিস্ট্রিক্ট লাইব্রেরির অডিটোরিয়ামের মঞ্চের পর্দা যখন খুলল, ঘড়ির কাঁটায় তখন ঠিক ছ’টা। শুরু হল সারস্বত নাট্য উৎসবের দ্বিতীয় রজনীর প্রথম নাটক – আজ বসন্ত। রচনা ইন্দ্রনীল দে। নির্দেশনা ও সঙ্গীত পরিচালনা সায়ন বিশ্বাস। দলের নাম ‘আজকের প্রজন্ম’। গল্প শুরু হল জীবনের সব ডিপার্টমেণ্টে হেরে যাওয়া এক অতি সাধারণ বোকাসোকা তরুণ হারু কে নিয়ে।
সোমশিখা মজুমদার, অনন্যা গুপ্ত ও সুস্মিতা চৌধুরী
সৌজন্যঃ পার্থ শীল আগের দিনের ইউরোপীয় নাটকে মৃত আত্মা নয়তো অ্যাঞ্জেলদের দেখা মিলত। তারা সব জানত - ভূত, ভবিষ্যৎ সব কিছুই। অনেকটা সেই প্যাটার্নে মঞ্চে সাদা পোষাক পরা তিন কন্যা হারুকে ঘিরে ধরে নাচল। অপেরার মেজাজে সুরেলা গলায় গাইল বাংলা গান, যার সুর পাশ্চাত্য কর্ডে বসানো তবু প্রচন্ড রকমভাবে দেশী। অনেকটা মহালয়ার চন্ডীপাঠের ‘রূপং দেহি, জয়ং দেহি’র মত সুর। কিন্তু অনন্য। যন্ত্রানুসঙ্গ পরিমিত।গানের কথা ও ভালো। শিল্পীরা ও ভালো গেয়েছেন। বলা যেতে পারে এটা ছিল নাটকের প্রিল্যুড।
অণির্বাণ রায় ও দেবরাজ পুরকায়স্থ। সৌজন্যঃ পার্থ শীল নাটকে এমন এক সময়ের কথা বলা হয়েছে যখন নকল ফুলের ভীড়ে আসল ফুল হারিয়ে যেতে বসেছে। মস্ত …

বড্ড কাঁটা, আস্তে গিলিস!

সন্ধে থেকেই বৃষ্টি পড়ছিল। গিন্নী যুত করে বানিয়েছিলেন আমার অত্যন্ত প্রিয় পদ সরষে ইলিশ। খুব মজা করে খাচ্ছিলাম। গিন্নী বলছিলেন বটে রাতের বেলায় সরষে বেশি খেও না, পেট গরম হবে, বয়স তো কম হয় নি ইত্যাদি। সরষে ইলিশের সাথে এরকম ঘ্যানর ঘ্যানর করলে মানায় কখনো, বলুন! আমি সেদিকে কান না দিয়ে গপাগপ খেয়েই যাচ্ছিলাম। মাঝখানে গলায় একবার কাঁটা ও আটকে গেছিল। যাই হোক, খেয়েদেয়ে তারপর ঠিক এগারোটায় শুয়ে পড়েছি। মাঝরাতে হঠাৎ কলিং বেলের শব্দে ঘুমটা ভেঙে গেল। ঘুমচোখে দরজা খুলে দেখি, একি! আমার তিনতলার ফ্ল্যাটের দরজায় দাঁড়িয়ে স্বয়ং কিশোর কুমার !!!
পরনে একটা ঢিলে জোব্বা মত পোষাক। এরকম একটা অদ্ভুত সাজে আগে তাঁকে কখনো দেখি নি। কিশোর কুমার তো একটু ইয়ে - মানে মাথায় একটু ছিট তো আগে থেকেই ছিল। নিজের বাড়ীতে না কি সাইনবোর্ড লাগিয়েছিলেন, ‘কিশোর কুমার হইতে সাবধান!’ সবই মুডের ব্যাপার। আজকের পোষাকটা ও সেই মুডেরই বহিঃপ্রকাশ হবে হয়তো। সাথে কে একজন লম্বা, দাড়ি অলা, বুড়ো মত লোক। কোথায় যেন দেখেছি লোকটাকে। লোকটা পরে আছে কোট প্যাণ্ট, আর হ্যাট। অনেকটা যেন কিশোর কুমার স্টাইল। যাই হোক, মাঝরাতে কিশোরদা কে দেখে আমার তো আক্কেল গুড়ুম। …

তিন কন্যার 'প্রয়াস'

গানের অনুষ্ঠান বললেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে এক পরিচিত ছবি। এয়ার কন্ডিশন্ড হলের বিশাল স্টেজের পেছনটায় কর্পোরেট ব্যাকড্রপ, চারপাশে ঝলমলে ব্যানার, গানের শেষে 'বাইরের' শিল্পীর সাথে আয়োজকদের 'সেলফি', পরের দিন খবরের কাগজের সংস্কৃতির পাতায় জমকালো ছবিসহ প্রতিবেদন এবং সবশেষে ফেসবুকে লাইকের বন্যা। ‘সমকাল’-এর মাসিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘প্রয়াস’ এসবের ধারই ধারে না। প্রেমতলার ‘জননী এপার্টমেণ্ট’ -এর গ্রাউণ্ড ফ্লোরের পেছনের দিকটাতে পার্ক করা গাড়ীগুলো আপাতত সরিয়ে কোনমতে খাড়া করা অস্থায়ী স্টেজ, যার পোষাকি নাম ‘স্বর্ণজিৎ নাথ স্মৃতি মঞ্চ’, সামনে খান তিরিশেক লাল রঙের প্লাস্টিকের চেয়ার, যা হোক গোছের একটা শব্দ-ব্যবস্থা, আর দর্শক শ্রোতাদের জন্যে চা বিস্কুট - ব্যস। এরকম একটা সাধারণ সেট আপের মধ্যে সমকাল সাংস্কৃতিক সংস্থা একটা নয়, দুটো নয় একেবারে ১২৭ খানা এপিসোড নামিয়ে দিয়েছে- ভাবা যায়?
মাসের একটি বিশেষ রবিবারে সন্ধ্যের দিকে বসে এই আসর। শ্রোতা সংখ্যায় কম, সমঝদারিতে ভারী। শ্রুতিনাটক, আবৃত্তি থেকে শুরু করে গান, যন্ত্রসংগীত - কী না হয় সেখানে! থাকে শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, সমাজ নিয়ে বক্তব্য ও। …

Goodbye! 'Cassini'

It was an unusual applause. Everyone present in the big hall stood up and clapped together, but there was no hint of even a faint smile on any of the faces. The big twin monitors fixed on the wall, one above the other, were not showing any movement any more. The green flickering lines stood flat, lifeless. 'Cassini' was gone. The big clock on the wall kept ticking, announcing the passage of time as usual, indifferent to the flow of human emotions along its timeline. A tall lean man, in his fifties, stood up. Earl Maize, the programme manager of Jet Propulsion Laboratory, California, looked around, before speaking. There were almost a hundred people in that big room. Everyone wore one single colour- the purple, with pictures of Cassini on the dresses. Maize felt a prick of sharp pain in his heart. He was not sure if he could speak, as he felt a lump inside his throat growing from nowhere. After all, he was involved in all these for a long time, since 1992, dreaming the big drea…