Skip to main content

অচিন পাখী



ক্লা

স নাইনে আমার এক স্যার বলেছিলেন, ‘চাইলে তুমি ফিউচারে যেতে পারবে।‘

মনটা আনন্দে নেচে উঠেছিল। টাইম মেশিনের গল্প আগেই পড়া ছিল। সেটা তাহলে এবার সত্যি হতে চলেছে? জানতে চেয়েছিলাম, কীভাবে?

BirdClock

জবাবে স্যার যা শুরু করলেন, তাতে আমার মাথা ঝিমঝিম করতে লাগল। বাপ রে বাপ। বেজায় কঠিন। আগে জানলে একটু ও উৎসাহ দেখাতাম না। আমার মনমরা ভাব দেখে স্যার বললেন, ‘অঙ্কে যাদের আতঙ্ক তাদের জন্য এসব বোঝা মুশকিল।‘

‘ভালো ভালো জিনিষ তো জানতে ইচ্ছে করে। কিন্তু তাই বলে অঙ্ক? আমি ওতে নেই।‘ জোরে বলার সাহস নেই। তাই মনে মনেই বললাম। পরে যদি ও বিজ্ঞান শেখার দায়ে অঙ্ক আমাকে শিখতে হয়েছিল।

সেসব তো স্টুডেণ্ট লাইফের কথা। এখন ভাবি, আমার মত আরো অনেকেই নিশ্চয় আছেন যারা বিজ্ঞানের নতুন নতুন ব্যাপার জানতে আগ্রহী। কিন্তু ঘুরেফিরে সমস্যা ওই এক জায়গায়। ড্রাগনের মত ভয়ঙ্কর আগুনে অঙ্ক!

সেই দুঃখের জায়গা থেকেই নিজেকে একটা চ্যালেঞ্জ দিয়েছি। বিনা অঙ্কে বিজ্ঞানের কথা বলব। যাতে ক্লাস নাইনের ছাত্র ও বুঝতে পারে।

টাইম মেশিনে চড়ে যদি অতীত বা ভবিষ্যতে যেতে হয় তবে প্রথমেই যে প্রশ্নটি আসবে তা হল অতীত, ভবিষ্যত, বর্তমান কাকে বলে? এটা আদৌ কঠিন নয়। স্কুলে তো সবাই গ্রামার পড়েছি। অতীত আমাদের স্মৃতিতে আছে, বর্তমানকে তো দেখতেই পাচ্ছি, আর ভবিষ্যৎ? নো কমেণ্টস। আমি তো জ্যোতিষী নই। আমরা যেন রেলের একেকটা স্টেশন পেছনে ফেলতে ফেলতে এগিয়ে যাচ্ছি। যেগুলো পেরিয়ে এসেছি সেসবের কথা পরিষ্কার মনে আছে। যেসব স্টেশন এখনো আসে নি তা নিয়ে কিছু বলতে পারছি না।

পায়ে হেঁটে আমরা ডাইনে বাঁয়ে যেতে পারি অথবা বিল্ডিঙের চারতলায় উঠতে পারি, নামতে ও পারি। টাইমের ভেতর দিয়ে ও একইভাবে যাওয়া যায়। হামেশাই যাচ্ছি। হাত পা গুটিয়ে একঘণ্টা একজায়গায় চুপচাপ বসে থাকলেই তো একঘণ্টা টাইম ট্রাভেল করা হয়ে গেল। ব্যাক করার রাস্তা নেই যদি ও। টাইম হচ্ছে ওয়ান-ওয়ে। শুধু একদিকেই দৌড়য়। উল্টোদিক থেকে নো-এন্ট্রি। ধোঁয়া ওঠা গরম চায়ের কাপ হাত লেগে পড়ে গিয়ে কাপ-প্লেট টুকরো হল, চা মাটিতে ছড়িয়ে গিয়ে ঠাণ্ডা হয়ে গেল – এমন তো মাঝে মাঝেই হয়। উল্টোটা ঘটতে দেখেছেন কখনো? বিজ্ঞানীরা যদি ও বলছেন সময় যে একদিকেই দৌড়চ্ছে বলে ভাবছি এটা নাকি আমাদের বিভ্রম।

OldMan
“বলি বয়েসটা এখন বাড়ছে না কমছে?”
কৃতজ্ঞতাঃ সুকুমার রায়

সুকুমার রায়ের হযবরল গল্পের সেই বুড়োটার কথা মনে আছে? যে বলেছিল, ‘আমার বয়স তো কত উঠল নামল, আবার উঠল। এখন আমার বয়েস হয়েছে তেরো।‘

সময় যদি উল্টোদিকে হাঁটত তবে কী মজাটাই না হত। বুড়ো হওয়ার বদলে রোজ একটু একটু করে ইয়ং হতাম। এতদিনে যা কিছু শিখেছি প্রতিদিন অল্প অল্প করে ভুলতে থাকতাম। মাটিতে ছড়িয়ে থাকা ঠাণ্ডা চা সদ্য জোড়া লাগা কাপ প্লেটের ভেতর আপনা আপনি সেঁধিয়ে গিয়ে ধোঁয়া ছাড়তে শুরু করে দিত। আহা। ভাবলে ও আনন্দ হয়।

এবার প্রশ্ন, সময় কাকে বলে? জেনে আনন্দ পাবেন, বিজ্ঞানীরা ও আজ অব্দি এর কোন জুতসই জবাব দিতে পারেন নি। আমরা তো কোন ছার। আমরা শুধু জানি, সময় কারো গোলাম নয়। ঘড়ি স্লো ফাস্ট হতে পারে, কিন্তু সময়ের গতিতে কোন হেরফের নেই।

এই ধারণার মাথায় মস্তবড় ঘা দিলেন খোদ আইনস্টাইন। তিনি বললেন, সময় নিজেই পাংচুয়াল নয়। সে কখনো দ্রুত চলে কখনো বা আস্তে। আইনস্টাইন অঙ্ক কষে দেখালেন যে কেউ যদি মহাকাশে খুব জোরে চলতে পারে তবে তার জন্যে সময় স্লো চলবে। খুব জোরে মানে কতটা জোরে? আলোর গতির কাছাকাছি স্পীডে চললে তবেই ব্যাপারটা পরিস্কার বোঝা যাবে। আলোর গতি কত মনে আছে তো? সেকেণ্ডে প্রায় তিন লাখ কিলোমিটার!

আরেকভাবে সময়কে স্লো করা যেতে পারে। যদি এমন কোন গ্রহে যেতে পারি যেখানে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি পৃথিবী থেকে অনেক বেশী, সেখানে ও এই ম্যাজিকটা কাজ করবে।

টাইম ট্র্যাভেল করে ভবিষ্যতে যাবার দুটো পথ কিন্তু এখান থেকে বেরিয়ে এল। স্পেস শিপে চেপে প্রচণ্ড গতিতে তিনমাস বেড়িয়ে ফিরে এসে দেখবেন আপনার ছেলেমেয়ে সবাই বৃদ্ধ। কারণ, আপনার জন্যে সময় যদি ও আস্তে চলেছে, পৃথিবীতে সময় থেমে থাকে নি। অথবা যদি স্পেসশিপ চড়ে একটা ব্ল্যাক হোলের চারপাশে দু’চক্কর কেটে আসেন, পৃথিবীতে ফিরে দেখবেন ভবিষ্যতে পৌঁছে গেছেন। গল্প বলছি না, এসব নির্জলা বৈজ্ঞানিক সত্য। ইন্টারস্টেলার সিনেমাতে গারগাণ্টুয়া নামের এক ব্ল্যাক হোলের খপ্পরে পড়ে মহাকাশচারীদের সময় টময় সব তালগোল পাকিয়ে গিয়েছিল। ছবিটা দেখলে আইনস্টাইনের কথাটা আরো পরিস্কার হবে। তবে গল্পের গরু কিনা গাছেই ওঠে। এই সিনেমাতে ও তার ব্যতিক্রম হয় নি। ছবিটির কিছু কিছু ব্যাপার কিন্তু বৈজ্ঞানিক ভাবে সত্য।

তবে দুঃখের বিষয় হল আলোর কাছাকাছি গতি এখনো আমাদের সাধ্যের বাইরে। আর ব্ল্যাক হোল? আমাদের ছায়াপথ বা ‘মিল্কি ওয়ে’ র ঠিক মাঝখানে একটা মস্তবড় ব্ল্যাক হোল থাকার কথা। সেটা এখান থেকে কতদূর? তিনের পিঠে সতেরোটা শূন্য বসালে যত হবে প্রায় তত কিলোমিটার। তবে কিনা কিলোমিটার দিয়ে মহাশূন্যের দূরত্ব মাপা অনেকটা চামচ দিয়ে পুকুরের জল মাপার মতই। লাইট ইয়ার বা আলোক বর্ষ দিয়ে মহাজাগতিক দূরত্ব মাপা হয়। এক বছর ধরে লাগাতার চলতেই থাকলে আলো যতটা পথ পাড়ি দেবে তাকে বলি এক লাইট ইয়ার। সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে আট মিনিট সময় লাগে। তাই সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব আট লাইট মিনিট। তা ওই ব্ল্যাক হোলটার দূরত্ব হবে সাতাশ হাজার লাইট ইয়ার। রিলেটিভিটি তত্ত্বের মারপ্যাঁচে না ঢুকে সহজ হিসেবে বলা যেতে পারে আলোর গতিতে চললে ও সেখানে যেতে সাতাশ হাজার বছর লেগে যাবে। কাছাকাছি আর একটা ছোট ব্ল্যাক হোল আছে যদি ও। যাবেন? কত দূর আর হবে! এই ধরুন, ২৭০০ লাইট ইয়ার। আলোর স্পীডে যেতে আসতে সময় নেবে ৫৪০০ বছর। বেড়ানোর প্ল্যান আপাততঃ ক্যানসেল করা ছাড়া উপায় নেই।

বিখ্যাত ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানী জয়ন্ত বিষ্ণু নার্লিকার এর লেখা বই থেকে ভগবতম অর্থাৎ ভাগবত পুরাণের একটা গল্প শেয়ার করছি। আইনস্টাইনের থিওরীর সাথে মিল পান কিনা দেখুন তো।

রাজা কুকুদ্মী তাঁর মেয়ে রেবতীকে নিয়ে চিন্তায় পড়েছিলেন। রূপে, গুণে, বিদ্যায় অনন্যা এই মেয়েটির জন্যে যোগ্য পাত্র খুঁজে যাচ্ছিলেন, কিন্তু কাউকেই রাজার ঠিক মনে ধরছিল না। এ মেয়েকে কি যার তার হাতে তুলে দেওয়া যায়? হঠাৎ মাথায় এল, ব্রহ্মা কে একবার কনসাল্ট করলে কেমন হয়? যেমন ভাবা তেমনই কাজ। আগের দিনে নাকি টাইম ট্র্যাভেল কোন ব্যাপারই ছিল না। মেয়েকে নিয়ে রাজা ব্রহ্মার দরবারে হাজির হলেন। ব্রহ্মা একটু ব্যস্ত থাকায় রাজাকে অপেক্ষা করতে হল। মিনিট কুড়ি পরে বেরিয়ে এসে ব্রহ্মা সব শুনে টুনে বললেন, ‘বাপু হে, তোমার লিস্টে যেসব পাত্রের নাম লিখে এনেছ, তারা কেউ আর এখন বেঁচে নেই।‘

একথার মাথা মুন্ডু রাজা কিছুই বুঝতে পারছিলেন না। ব্রহ্মা বুঝিয়ে দিলেন, সময় সব জায়গায় একভাবে চলে না। ব্রহ্মলোকের কুড়ি মিনিটে পৃথিবীতে হাজার হাজার বছর পার হয়ে গেছে।

রাজা মুষড়ে পড়লেন। ব্রহ্মা বললেন, ‘কোন ভয় নেই। যোগ্য পাত্রের সন্ধান আমি বলে দিচ্ছি।‘

হবু জামাই এর ঠিকানা নিয়ে রাজা পৃথিবীতে ফিরলেন। এবং মেয়ের বিয়ে দিলেন।

ভাগবত পুরাণ লেখা হয়েছিল অন্ততঃ হাজার বছর আগে। আর আইনস্টাইনের থিওরীর জন্ম এই সেদিন- একশো বছর আগে। আইনস্টাইনকে ধন্যবাদ দিতেই হচ্ছে। ভাগ্যিস, তিনি সময়ের ‘লেট’ হওয়ার ব্যাপারটা আবিষ্কার করেছিলেন। নইলে আমরা এতদিন ধরে ভাগবত পুরাণকে নিছক গাঁজাখুরি গল্প ভেবে আসছিলাম। ভারতীয় পুরনো পুঁথিতে এমন অনেক জিনিষ আছে যা নিয়ে খুব একটা নাড়াচাড়া হয় নি। সেসব বই পড়তে সংস্কৃত ভাষা জানা প্রয়োজন - দরকার নেই ভেবে যার চর্চা আমরা করছি না।

এবার দেখি অতীতে যাওয়া যায় কিনা। গেলে ও মুশকিল। ভাবুন, টাইম মেশিনে চেপে আপনি পঞ্চাশ বছর পিছিয়ে গেছেন। সেখানে আপনার ঠাকুর্দার সাথে দেখা হল। এবার যদি আপনি তাঁকে খুন করে ফেলেন, তাহলে আপনার জন্ম হবে কী করে? বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং বলছেন, অতীতে যাওয়া সম্ভব যদি ও বা হয়, ইতিহাস নতুন করে লেখা যাবে না।

spacetime
সৌজন্যঃ স্পেস ডট কম

আইনস্টাইন ও তাঁর শিক্ষক মিনকোস্কি আরো একটা অদ্ভূত কথা বলেছিলেন। স্পেস এবং টাইম কে না কি আলাদা করে দেখা উচিত নয়। দুটোকে মিলিয়ে স্পেস-টাইম নামে একটা ধারণার জন্ম তখন হয়েছিল। আরো একটা অদ্ভূত কথা। যেকোন ভারি বস্তু যেমন গ্রহ বা নক্ষত্র (যেমন আমাদের সূয্যিমামা) নাকি তার আশেপাশের স্পেস-টাইমকে দুমড়ে মুচড়ে বিকৃত করে ফেলে। (ছবিটা দেখুন।) এক গামলা মধুর মধ্যে একটা বল কে ফেলে লাট্টুর মত ঘোরালে বলটা যেমন খানিকটা মধু ও সঙ্গে টেনে নিয়ে যাবে, তেমনই নাকি পৃথিবী ও তার চারপাশের স্পেস-টাইমকে ঘোরাচ্ছে আর টেনে নিয়ে চলছে। এসব ভারী ভারী তত্ত্ব আইনস্টাইন কিন্তু স্রেফ কাগজে অঙ্ক কষে বের করেছিলেন। ব্যাপারটা সত্যি নাকি বুজরুকি তা বোঝার জন্যে ২০০৪ সালে নাসা থেকে ‘গ্রাভিটি প্রোব বি’ নামে এক স্যাটেলাইট পাঠানো হয়। শেষ পর্যন্ত জানা গেছে বিজ্ঞানের গুডবয় আইনস্টাইন আবার ও একশো তে একশো পেয়ে পাশ করেছেন।

wormhole
শিল্পীর কল্পনায় ওয়ার্ম হোল
সৌজন্যঃ স্পেস ডট কম

স্পেসটাইমের ভাঁজের ভেতর দিয়ে অন্য দেশ এবং কালে ট্র্যাভেল করার কথা বিজ্ঞানীরা অনেকদিন ধরেই ভাবছেন। ওয়ার্ম হোল নামে একধরনের শর্ট কাটের কথা শোনা যাচ্ছে যা দিয়ে অনেক দূরে ও অন্য কালে অবিশ্বাস্য কম সময়ে পৌঁছনো যাবে। এটা আইনস্টাইনের থিওরি তে আছে ঠিকই - কিন্তু গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল। ওয়ার্ম হোল না কি বেজায় অস্থিরচিত্ত। এই আছে এই নেই। ওয়ার্ম হোল নামক মহাজাগতিক সুড়ঙ্গটিকে যথেষ্ট সময় ধরে টিঁকিয়ে রাখতে গেলে চাই আরো একটা অদ্ভুত বস্তু যার চেহারা এখনো কেউ দেখেনি। সেটা হল নিগেটিভ এনার্জি।

আরেকটা উপায় আছে। ওয়ার্প ড্রাইভ। এমন কোন স্পেসশিপ যদি তৈরী করা যায় যা সামনের স্পেসটাইম কে সঙ্কুচিত করে ফেলবে আর পেছনের স্পেসটাইম কে প্রসারিত করবে। এতে স্পেসটাইমে একটা বুদ্বুদ সৃস্টি হবে যা ঢেউয়ের মত এগোবে। আর এই বুদ্বুদের ভেতরে থাকবে স্পেসশিপটা। তাহলেই কেল্লা ফতে। পুরোটাই ছিলিমের গল্প ভাববেন না যেন। ‘আইএক্সএস এন্টারপ্রাইজ’ নামে এক স্পেসশিপ নাকি নাসার ল্যাবরেটরিতে গড়ে উঠছে যা ওয়ার্প ড্রাইভ দিয়ে নিমেষে অনেক দূরের স্পেসটাইমে পৌঁছতে পারবে। অনেকটা স্টার ট্রেক সিনেমার এন্টারপ্রাইজ এর আদলে গড়ে উঠতে চলেছে এই মহাকাশযান। তবে কিনা দিল্লী এখনো অ-নে-ক দূর।

টাইম ট্র্যাভেল এই মুহূর্তে সম্ভব হোক বা না হোক, টাইমের ব্যাপারে আমাদের পুরনো ধারণা বদলাবার সময় বোধহয় পার হয়ে যাচ্ছে।

QMformula

কোয়ান্টাম মেকানিক্স নামে বিজ্ঞানের যে শাখাটি রয়েছে সেটি আস্ত এক পাগলখানা। সে দুনিয়ার কান্ড কারখানা মানুষের বোধের বাইরে। অঙ্ক ছাড়া সেখানে এক পা ও এগোনো যাবে না। খালি চোখে দেখা যায় না এমন সব কণা নিয়ে তার কারবার। যদি ও এদের কণা বলা সঙ্গত নয়। আসলে এদের যে কী বলা উচিত তা কেউই বলতে পারছেন না। এই কোয়ান্টাম কণা নিয়ে বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে যা দেখেছেন তা শুনলে চোখ কপালে উঠবে। কোনটা ভবিষ্যৎ আর কোনটা যে অতীত বিজ্ঞানীদের সব গুলিয়ে যাচ্ছে। আমরা যাকে কার্য কারণ সম্পর্ক বলে জানি সেটাকে ও এখন যেন উলটো মনে হচ্ছে। একটু অবাক লাগছে হয়ত। কিচ্ছু করার নেই। বৈজ্ঞানিক সত্যকে মেনে নিতেই হবে। স্টিফেন হকিং আবার আরেক পা এগিয়ে গিয়ে ‘ইমাজিনারি টাইম’ বা কাল্পনিক সময় বলে একটা খটোমটো তত্ত্বের আমদানি করেছেন। এনার লেখা বই ‘আ ব্রীফ হিস্ট্রি অব টাইম’ পড়লে আরো মজাদার খবর মিলবে।

প্রিয় বন্ধুর মৃত্যুর পর বন্ধুর পরিবারকে লেখা চিঠিতে আইনস্টাইন বলেছিলেন টাইম আসলে এক ইলিউশন, যার সোজা বাংলা – মায়া। সময় যদি মায়া বা বিভ্রান্তি হয়, তবে মৃত্যু ও হয়ত তাই। রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, ‘ফুরায় যা, তা ফুরায় শুধু চোখে/ অন্ধকারের পেরিয়ে দুয়ার যায় চলে আলোকে।‘

ভেবে পাই না, ইনি কি কবি? নাকি বিজ্ঞানী?

উপনিষদে লেখা আছে, "তদেজতি তন্নৈজতি তদ্দূরে তদ্বন্তিকে। তদন্তরস্য সর্বস্য তদু সর্বস্যাস্য বাহ্যতঃ।।"

QMclock

এর মানে বোঝানো আমার কম্ম নয়। শুধু বাংলা করে দিচ্ছি। ‘সে চলেও বটে, চলে না ও বটে, সে দূরে ও আছে আবার পাশেই আছে। সে সবকিছুর মধ্যেই রয়েছে আবার সবকিছুর বাইরে ও।‘

টাইম ব্যাপারটা কি সত্যিই তাহলে একটা ইলিউশন? মায়া? একধরণের বিভ্রান্তি? আলু, বেগুন, চাল, ডাল নিয়ে ব্যস্ত এই মানবজীবনে এসব নিয়ে ভাবার ফুরসত আমাদের কোথায়? প্রকৃত সত্য আসলে কী এবং তার চেহারাটাই বা কেমন- কেউ জানে না।

সময় আজো এক অচিন পাখী। তারা ভরা রাতে ছাদের ওপর বসে গালে হাত দিয়ে কখনো ভাবি – আমাদের চেতনার খাঁচার ভেতর সে ‘কমনে’ আসে, যায়!!

(আরো পড়তে চান? আমার ফেসবুক পেজ লাইক করে রাখুন। নতুন লেখা বেরোলেই আপনার কাছে খবর চলে আসবে।)

– ত্রিদেব চৌধুরী

(This was published on 27.11.2017 in the Silchar edition of 'Dainik Jugasankha', a leading vernacular daily. You can also read the story here. Go to page 7.)

tridev
View Author Profile

Comments

Popular posts from this blog

গণেশবাবুর স্মার্টফোন

সকালে চায়ের সাথে বিস্কুটের মত খবরের কাগজ না হলে আমার একদমই চলে না। সবে প্রথম পাতায় চোখ বোলাচ্ছি হঠাৎ কাগজের ওপর একটা ছায়া পড়ল। মুখ তুলে দেখি গণেশবাবু। মুখে লাজুক হাসি। হাতে একটা কাগজে মোড়া ছোট বাক্স। চাইনিজ স্পেস স্টেশন নিয়ে আমার লেখা ‘তিয়াংগং’ এর গল্প যারা পড়েছেন তারা গণেশবাবুকে ভালো করেই চেনেন। যারা চেনেন না, তাদের বলে দিই, ইনি আমার প্রতিবেশী। বয়স এখনো ষাটের নীচে। একমাত্র ছেলে থাকে ইউএসএ তে।
-আরে, আসুন আসুন! আমার বিরক্তি গণেশবাবুকে বুঝতে দিলাম না। -বসুন, কী ব্যাপার, হাতে ওটা কী?
-আর বলবেন না মশাই, ছেলে আমাকে গাড্ডায় ফেলে দিয়েছে। নাহলে কি সকাল সকাল আপনাকে বিরক্ত করতে আসি? এই মরেছে! গণেশবাবু কি আমার অভিনয় ধরে ফেলেছেন? তাই ডবল জোর দিয়ে বললাম, ‘আরে আরে, মানুষ তো মানুষের কাছেই আসবে। এত ভাবছেন কেন? তা, কী বিপদে ফেলল আপনার ছেলে? মেয়ে পছন্দ করে ফেলেছে না কি? বলা যায় না, আমেরিকা বলে কথা।‘ -না না, তা নয়। আপনাদের আশীর্বাদে ছেলের এখনো কোন বেচাল দেখিনি।
-তবে?
-ছেলে আমার জন্য এইটা পাঠিয়েছে। হাতের বাক্সটা এবার আমার দিকে বাড়িয়ে দিলেন গণেশবাবু। হাতে নিয়ে কাগজ সরাতেই বোঝা গেল জিনিষটা একটা স্ম…

নাটকঃ লিগ্যাসি কোড ১৯-০৫-১৯৬১

ছোটবেলায় পড়েছিলাম কলম নাকি তলোয়ারের চেয়ে অনেক ধারালো, অনেক শক্তিশালী। এতদিন তাই ভাবতাম। এখন লিখতে বসে কেমন যেন সন্দেহ হচ্ছে। বুধবার বঙ্গভবনে যে নাটক দেখলাম তাকে কাগজের পাতায় ফুটিয়ে তোলার কনফিডেন্স অন্ততঃ আমার কলমে নেই। নাট্যকার অরিজিৎ আদিত্য ও নির্দেশক অভিনেতা সুব্রত রায়ের প্রতিভার সামনে নতজানু হয়ে এ লেখা লিখছি।
গ্রাফিক্স ডিজাইনঃ ডঃ রাজীব কর নাটকটি প্রথমবার মঞ্চস্থ হয়েছিল দিল্লীতে। এবার শিলচরে হল। এ নাটকের যেটা ক্যানভাস, দুরূহ বাংলায় যাকে বলে পটভূমিকা, সেটা বরাক উপত্যকার তো বটেই গোটা অসমের সবারই জানা। তবে ভারতবর্ষের বেশির ভাগ লোকই এ নিয়ে খুব একটা কিছু জানেন না।
গল্পের মুখ্য চরিত্র অর্জুন নমশূদ্র এক ‘ডি-ভোটার’। এই ‘ডি-ভোটার’ বা ডাউটফুল ভোটার শব্দটি অসমের বাঙালীদের জন্যে আতঙ্কের অপর নাম। কারো নামে একবার যদি এই ‘ডি-ভোটার’ নোটিস আসে তবে তিনি নিজভূমেই পরবাসী হয়ে গেলেন। তাঁকে এবার আদালতে প্রমাণ করতে হবে তিনি ভারতের নাগরিক। মাননীয় গৌহাটি হাইকোর্টের আদেশ মত বিচার না হওয়া পর্যন্ত ‘ডি-ভোটার’ দের ডিটেনশন ক্যাম্পে আটক করে রাখতে হয়। রাজ্যের অনেক জায়গায় জেলগুলিকেই ডিটেনশন ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহা…